মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১০:২১ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
সংবাদ শিরোনাম
মিন্নীর তৈরি আইল্যাশ রপ্তানি হচ্ছে চীন সহ মধ্য প্রাচ্যের দেশে শিমুলিয়া স্বার্বজনীন মনসা মন্দির ও যুব সমাজের উদ্যোগে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্যে মূলক সাক্ষাৎ করতে চান কক্সবাজারের প্রতিবন্ধী রেজাউল করিম এস,পি গোলাম সবুরের দিকনির্দেশনায় মাদক, জুয়া, অনলাইন গেম এবং প্রতারকের বিরুদ্ধে সজাগ জেলা পুলিশ নীলফামারী কুষ্টিয়ায় সাংবাদিকের ওপর হামলা, ক্যামেরা ভাংচুর : ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম যশোরের অভয়নগরে বসন্ত মেলা অনুষ্ঠিত কক্সবাজার উপজেলা প্রেসক্লাবে দ্বি- বার্ষিক নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়ন পত্র যাচাই বাছাই সম্পন্ন  দৈনিক লিখনী সংবাদ পত্রিকার ৩য় প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ও সংবাদিক সম্মেলন-২০২৪ পালিত অভয়নগরে যুবলীগ নেতা মুরাদ হোসেন-কে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা মানবাধিকার অ্যাসোসিয়েশন বগুড়া জেলা কমিটির মাসিক আলোচনা 
ঘোষণা:
পরিবর্তনের অঙ্গীকারে আপনাকে স্বাগতম। সময়ের বহুল প্রচারিত বস্তুনিষ্ঠ ও নির্ভরযোগ্য  ভিন্নধারার নিউজ পোর্টাল "পরিবর্তনের অঙ্গীকার"। অতি অল্প দিনে পাঠক নন্দিত হয়ে উঠেছে। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের লক্ষে কাজ করছে এক ঝাঁক তরুণ, মেধাবী ও অভিজ্ঞ সংবাদকর্মী। দেশ-বিদেশের সকল খবরাখবর কারেন্ট আপডেট জানাতে দেশের জেলা, উপজেলা এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সংবাদ প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে।  ছবিসহ জীবন বৃত্তান্ত (সি ভি)পাঠাতে হবে। ই-মেইল: khalidsyful@gmail.com , মোবাইল : ০১৮১৫৭১৭০৩৪

কুষ্টিয়া শহরের কলকাকলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ঢুকে প্রকাশ্যে হামলা

কুষ্টিয়া অফিস // নিজস্ব প্রতিনিধি / ১৮৪ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : সোমবার, ১৩ জুন, ২০২২, ১০:৪৩ অপরাহ্ন

কুষ্টিয়া শহরের কলকাকলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ঢুকে প্রকাশ্যে আবির হোসেন (১৪) নামের এক শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাত করে গুরুতর জখম করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে ওই বিদ্যালয়ের একটি ভবনে শ্রেণিকক্ষের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

হামলা শিকার আবির কলকাকলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র সে। তার বাড়ি কুষ্টিয়া শহরের মজমপুর ঝাউতলা এলাকায়। সে মোহাম্মদ শাহজাদা ওরফে গয়ার ছেলে।

পরে গুরুতর আহত অবস্থায় আবিরকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের ১নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসকরা।

আবির ও তার সহপাঠীদের দাবি,কলকাকলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের একদল শিক্ষার্থী এই ঘটনা ঘটিয়েছে। ওই শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাতের পাশাপাশি তারা বিদ্যালয়ে ভাঙচুরও করেন তারা। এতে অংশ নেয় জিলা স্কুলের কয়েকশত শিক্ষার্থী। ঘটনার পর বিদ্যালয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

কলকাকলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা চলমান। পাশাপাশি এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান উপলক্ষে একটি কক্ষ সাজানো হচ্ছিল। দুপুরে পরীক্ষা শেষে শিক্ষার্থীরা বাড়িতে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। আবিরেরও পরীক্ষা ছিল। সে পরীক্ষা শেষ করে বাড়িতে যাওয়ার জন্য মাঠের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। তখন জিলা স্কুলের একদল শিক্ষার্থী লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কলকাকলী বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে। তাদের দেখে ভয়ে দৌড় দিয়ে আবির বিদ্যালয়ের বারান্দায় আশ্রয় নেয়। সেখানে তারা আবিরের ডান পায়ে ছুরিকাঘাত করে। এতে গভীর ক্ষত তৈরি হয়। এ সময় প্রধান শিক্ষকসহ অন্যরা বাঁধা দিতে গেলে তাঁদের ওপরও চড়াও হয় ওই শিক্ষার্থীরা। পরে পুলিশ আসার খবরে তারা দ্রুত সেখান থেকে চলে যায়। যাওয়ার সময় চারতলা নতুন ভবনের জানালার গ্লাসও ভাঙচুর করে জিলা স্কুলের উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা।

কলকাকলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জেব-উন-নিসা বলেন, ‘মজমপুর এলাকার বাসিন্দা ও জিলা স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থীর  নেতৃত্বে ছেলেরা লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা করে। আমার ছাত্রকে ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করেছে। তারা স্কুলের দুটি ভবনের সব জানালা ভাঙচুর করেছে। তাদের সঙ্গে জিলা স্কুলের শাহরিয়ার ফেরদৌস, ইশতিয়াক আহমেদ, স্বাধীন, আওয়াল, জুয়েল ইসলাম, তুহিন আহমেদ, হৃদয় হোসেন, ইমন খানসহ অনেকেই অংশ নেয়। আমরা থানায় মামলা করব।’

হামলা শিকার আবির জানান, সে একজনকে চেনে, জিলা স্কুলে পড়ে। তাকে দেখলে চিনতে পারবে। তবে নাম বলতে পারছে না। বাকিদের সে চেনে না। তার সঙ্গে কারও কোনো ঝামেলা ছিল না। কী কারণে ছুরিকাঘাত করেছে তা বলতে পারছে না সে।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মেহেদী হাসান বলেন, ধারালো কিছু দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। অবস্থা আশঙ্কাজনক। প্রচুর রক্তের প্রয়োজন।

আবিরের বাবা মোহাম্মদ শাহাজাদা বলেন,‘মজমপুরের সংগ্রামের নেতৃত্বে এই হামলা হয়েছে। তারা বিএসবি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য। আমার ছেলে তো নিরীহ। তাকে কেন মারা হলো। মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।’

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দরা জানান, পুলিশ লাইনস স্কুলের এক শিক্ষার্থীকে মারধর করে কলকাকলী বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী। পুলিশ লাইনস স্কুলের সেই শিক্ষার্থীর কয়েকজন বন্ধু জিলা স্কুলে পড়ে। সেই ঘটনার জেরে তিন দিন আগে কলকাকলী বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী প্রদীপকে মারধর করে জিলা স্কুলের শিক্ষার্থীরা। আজ তারা জোটবদ্ধ হয়ে কলকাকলী বিদ্যালয়ে হামলা চালায়। তাদের প্রেম সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে ঝামেলা চলছিল। জিলা স্কুল ও কলকাকলী বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর একই হওয়ায় এমন ঘটনা ঘটেছে। শুধু তাই নয়, জিলা স্কুলের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে প্রাচীর বেয়ে কলকাকলী বিদ্যালয়ে ঢুকে মেয়েদের উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ রয়েছে।

কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক এফতে খাইরুল ইসলাম বলেন,‘সকালে ছেলেরা উত্তেজিত হয়। আমি তাদের ঠান্ডা করার চেষ্টা করি। তারা আমার কথা না শুনে পুলিশের সামনেই কলকাকলী বিদ্যালয়ে গিয়ে এক ছাত্রকে মেরেছে। স্কুলে ভাঙচুর চালিয়েছে। এটা লজ্জাজনক। আমার স্কুলের এক ছাত্রের কাছ থেকে একটা ছুরি উদ্ধার করে রেখে দিয়েছি। যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাব্বিরুল আলম বলেন, জিলা স্কুলের ছেলেরা দলবল নিয়ে হামলা চালিয়েছে। একজন ছাত্রকে ছুরি মেরেছে তারা। পাশাপাশি বিদ্যালয়ে ভাঙচুর করেছে। কারা কারা জড়িত, তাদের নাম পাওয়া গেছে। মামলা হলে সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিব।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো সংবাদ
এক ক্লিকে বিভাগের খবর